logo-img

১৭, জুলাই, ২০১৯, বুধবার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০


মসজিদের খাদেম হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুল

রিপোর্টার: আদালত প্রতিবেদক | ০৯ জুলাই ২০১৯, ০৭:০৬ পিএম


মসজিদের খাদেম হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইফুল

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদের খাদেম মো. হানিফ শেখ হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামি সাইফুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 

মঙ্গলবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক মনিরুল আসামিকে হাজির করেন। এসময় আসামি সাইফুল স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকরোক্তি রেকর্ডের শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে ৮ জুলাই রাতে আসামি সাইফুলকে গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতারের পর পিবিআই জানান, ওই মসজিদে তিনজন খাদেম ও একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী কর্মরত ছিল। এদের মধ্যে আসামি সাইফুল সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতো না। ফলে, ডিজিষ্ট হানিফকে প্রধান খাদেম বানানো হয় ও সাইফুলকে তার সহযোগী করা হয়। সাইফুল হানিফের প্রধান খাদেম হওয়া মেনে নিতে পারেনি। হানিফের বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা উপেক্ষা করতো।

এদিকে চলতি মাসের ২ তারিখে জোহরের নামাজ পড়ে ডিজিষ্ট হানিফ আসামি সাইফুলকে একটি কাজ দেন। সে কাজটি করতে অস্বীকার করলে, দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর দুপুরে খাবার শেষ করে হানিফ মসজিদের পাশে তার রুমে ফ্লোরে ঘুমিয়ে পড়ে এ সময় ঘরে কেউ ছিলো না। এই সুযোগে সাইফুল দরজা লাগিয়ে দিয়ে রান্না ঘর থেকে একটা চাকু এনে ডিজিষ্ট হানিফের বুকে ও গলায় একের পর এক আঘাত করে। হানিফ জেগে উঠলে এক হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে, সাইফুল উপর্যুপরি হানিফের বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। 

উল্লেখ্য, গত ৩ জুলাই লালবাগ থানার আজিমপুর কবরস্থান সংলগ্ন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদের একটি কক্ষের বারান্দা থেকে হানিফ শেখের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত হানিফ শেখ ওই মসজিদের খাদেম ছিলেন। ওই ঘটনায় ৪ জুলাই হানিফের শ্বশুর জাকির শেখ বাদী হয়ে লালবাগ থানায় চার জনের নামে হত্যা মামলা করেন।