logo-img

১৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৬ মুহররম ১৪৪১


বিশ্বকাপে সাকিবের যত অর্জন

রিপোর্টার: ক্রীড়া ডেস্ক | ০৮ জুলাই ২০১৯, ০৩:২১ পিএম


বিশ্বকাপে সাকিবের যত অর্জন

ক্রিকেট বিশ্বকাপ-২০১৯

বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘গ্লোবাল সুপারস্টার’। ২০০৬ সালে ওয়ানডেতে অভিষেকের ঠিক পরের বছরই বিশ্বকাপ আঙিনায় পা রাখেন সাকিব; এরপর খেলেছেন একে একে চারটি বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারে কখনোই পেছনে ফিরে তাকানোর আক্ষেপে পুড়তে হয়নি সাকিবকে। ক্রিকেটীয় সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে তরতর করে কেবলই এগিয়ে গেছেন তিনি। পৌঁছেছেন চূড়ায়! নামের পাশে কত-শত অর্জন! ‘বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার’ তকমাটাও একেবারে অবিচ্ছেদ্যভাবে জুড়ে গেছে তার সঙ্গে! সেই মাপকাঠিতে সাকিবের বিশ্বকাপ অর্জনের ঝুলি আরও সমৃদ্ধ হয়েছে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে। 

পঞ্চ পাণ্ডবদের নিয়ে ঘটিত বাংলাদেশ দল দ্বাদশ বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সাকিব ছাড়া ব্যাট-বলে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপটাকে নিজদের মতো বাকিরা রাঙাতে না পারায় গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিতে হয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিদের।

তবে এই আসরে টাইগার শিবিরে কেবল উজ্জ্বল প্রদীপ ছিলেন সাকিব। বাংলাদেশ বিদায় নিলেও অবিশ্বাস্য সব রেকর্ড-অর্জনের মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপটাকে নিজের করে নিয়েছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। বললে ভুল হবে না, এবারের আসরটি ছিল ‘সাকিবের বিশ্বকাপ’ বা 'সাকিবময় বিশ্বকাপ'। এটা প্রকারান্তরে স্বীকার করেছেন কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা ও খোদ আইসিসিও। 

এই আসরে সাকিব খেলার সুযোগ পেয়েছেন ৮টি ম্যাচে; যেখানে তিনি জন্ম দিয়েছেন রেকর্ডের পর রেকর্ড। এইতো বিশ্বকাপের নিজেদের শেষ ম্যাচেও সাকিব রেকর্ড গড়েছেন- পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি করেই ভারতীয় কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের অনন্য এক রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন সাকিব।

হতাশায় মোড়ানো বিশ্বকাপ শেষে উজ্জ্বল থাকা সাকিব কী কী কীর্তি গড়েছেন তা সবারই জানা- তবুও আসুন এক নজরে দেখে নিই, ঠিক কী কী অর্জনের মাধ্যমে সাকিব নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন।

১. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক গড়ার পর অবিশ্বাস্য আরেকটি রেকর্ড গড়েছেন সাকিব। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে ১০০০ রান আর ৩০ উইকেটের মালিক এখন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। 

২. ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপে ৬০০-এর বেশি রান ও ১১ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন সাকিব। 

৩. ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন সাকিব। ইতিহাসে এই কীর্তি আছে আর মাত্র একজনেরই, ভারতের সাবেক অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের। ২০১১ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরির পাশাপাশি ৫ উইকেট নেন যুবরাজ।

৪. একই বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি এবং ৫ উইকেটের কৃতিত্ব দেখানো ইতিহাসের তৃতীয় খেলোয়াড় সাকিব। ইতিহাসে এই কীর্তি আছে আর দুইজনের। সেই দুইজনই ভারতের। কপিল দেব ও যুবরাজ সিং।

৫. ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপে ৭টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন সাকিব। ভাগ বসিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকারের গড়া ১৬ বছর আগের রেকর্ডে। ২০০৩ বিশ্বকাপে টেন্ডুলকারও ৭টি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছিলেন। 

৬. পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৪ রানের ইনিংস খেলার মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকাতেও শীর্ষ দশে ঢুকে পড়েছেন সাকিব। 

৭. প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন সাকিব। বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি তার দখলে।

৮. বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ডটিও সাকিবের।

৯. বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটিও তার দখলে।

১০. আগের তিন বিশ্বকাপ মিলিয়ে সাকিব করেছিলেন ৫৩৯ রান, এবার ৮ ম্যাচেই ৬০৬ রান। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে সাকিবের রান এখন ১১৪৬। রান সংগ্রহে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা দশেও (নবম স্থানে) ঢুকে গেছেন সাকিব।