logo-img

১৭, জুলাই, ২০১৯, বুধবার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০


কলেজে ভর্তি সুযোগ পাচ্ছে ভর্তি হতে না পারা ৩০ হাজার শিক্ষার্থী

রিপোর্টার: নিউজ ডেস্ক | ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩৬ এএম


কলেজে ভর্তি সুযোগ পাচ্ছে ভর্তি হতে না পারা ৩০ হাজার শিক্ষার্থী

চলতি বছর এসএসসি পাস করা সারাদেশে এখনো প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি বঞ্চিত রয়েছে। তিন ধাপে আবেদন করার পরও এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ফলে শঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন শিক্ষা বোর্ডে অভিযোগ জানাতে ছুটে আসছে অনেকে। ভর্তিচ্ছু এসব শিক্ষার্থীকে পুনরায় সুযোগ দেবে শিক্ষাবোর্ড।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, একাদশে প্রথম পর্যায়ে আবেদন করেছিল ১৪ লাখ ১৫ হাজার ৮৭৬ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ১০ জন ভর্তির জন্য কলেজ পায়নি। ভর্তির জন্য ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৩২৫ জনকে নিশ্চায়ন করা হয়েছে। তবে কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পায়নি ৩০ হাজার শিক্ষার্থী।

অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করছে, তাদের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও কলেজে গিয়ে ভর্তি হতে পারছে না। তবে সে অভিযোগ অস্বীকার করছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের নজর থাকে প্রথম সারির কলেজেগুলোর দিকে। তবে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেকে আবেদন করেও ভর্তির সুযোগ পায়নি। তবে তারা সবাই শূন্য আসনগুলোতে ভর্তি হতে পারবে।’

কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী সুমন ইসলাম বলেন, ‘সরকারি আটটিসহ মোট ১০টি কলেজ সিলেক্ট করেছিলাম। কিন্তু কোথাও সুযোগ পাইনি। সর্বশেষ তালিকায়ও কলেজ আসেনি। এখন ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

জানা গেছে, জিপিএ ও পাশের ভিত্তিতে এবার কলেজগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। গত বছর ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে এ, বি ও সি- এই তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। ৬৫০ শিক্ষার্থী ও পাসের হার যদি ৭০ শতাংশের বেশি হয় তাহলে সেই কলেজ ‘এ’ ক্যাটাগরির। ৬০০ শিক্ষার্থী ও পাসের হার যদি ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ থাকলে তা হবে ‘বি’ ক্যাটাগরির। আর ৬০০ এর কম শিক্ষার্থী এবং পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে থাকা কলেজগুলো হবে ‘সি’ ক্যাটাগরির।

বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, আবেদনের ক্ষেত্রে সব শিক্ষার্থী শুরুতেই 'এ' ক্যাটাগরির কলেজগুলো নির্ধারণ করে। কিন্তু সেসব কলেজের আসন পূর্ণ থাকায় তারা সুযোগ পান না। শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে আবেদন করলে এ সমস্যা হতো না।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ক অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘কলেজগুলোর শূন্য আসনের তথ্য ৪ জুলাই প্রকাশ করা হবে। এরপর ৮ জুলাই থেকে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। যারা ভর্তি হতে চায় তাদের সবাইকে ভর্তির ব্যবস্থা করব। জুলাই মাসব্যাপী ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে।’

গত ২৩ মে কলেজে ভর্তি আবেদনের শেষ দিন পর্যন্ত ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও একটি মাদরাসা বোর্ডের অধীনে থাকা কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য মোট আবেদন করে প্রায় ১৪ লাখ ভর্তিচ্ছু। এদের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করেন ১০ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি এবং এসএমএসের মাধ্যমে তিন লাখ ৬৫ হাজারের বেশি। শুধু ঢাকা বোর্ডেই তিন লাখ ৯৫ হাজারের বেশি ভর্তিচ্ছু আবেদন করেন।

পরে ১৯ ও ২০ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়। ২১ জুন রাত ৮টার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হয়। ২২ ও ২৩ জুন দ্বিতীয় পর্যায়ের সিলেকশন নিশ্চায়ন করা হয়। ২৪ জুন রাত ৮টার পর থেকে তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হয়।

সকল প্রক্রিয়া শেষে ২৭ থেকে ৩০ জুন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরে পহেলা জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণীতে ক্লাস শুরু হয়।

উল্লেখ্য, এ বছর মোট এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যা ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন।