logo-img

১০, ডিসেম্বর, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১২ রবিউস সানি ১৪৪১


সংসদে দেওয়া প্রথম বক্তব্যেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির রুমিন

রিপোর্টার: বিশেষ প্রতিনিধি | ১১ জুন ২০১৯, ১১:৫৪ পিএম


সংসদে দেওয়া প্রথম বক্তব্যেই উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির রুমিন

বিএনপি মনোনীত সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রথমবার দেওয়া দুই মিনিটের বক্তৃতা উত্তাপ ছড়িয়েছে। একাদশ সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলে সরকারি দলের এমপিদের তোপে পড়েন রুমিন।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দেওয়া রুমিন ফারহানার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ‘হই হই’ করতে থাকেন সরকারি দলের সদস্যরা। কেউ কেউ ‘চুপ চুপ’ বলে থামতে বলেন। 

কেউ বসে যেতে বলেন। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপেও না থামায় হট্টগোলের মধ্যেই বক্তৃতা শেষ করেন তিনি।

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শুরুর দিন মাগরিবের নামাজের বিরতির পর পয়েন্ট অব অর্ডারের বক্তব্য শুরু হয়। এর একপর্যায়ে বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ ফ্লোর পান। হারুন তার বক্তব্যে ঈদুল ফিতরের চাঁদ দেখতে পাওয়ার সিদ্ধান্ত দেরিতে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে একে ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন।

তার এ বক্তব্যে সরকারি দল আওয়ামী লীগের এমপিরা আপত্তি ও প্রতিবাদ করেন। হারুনুর রশীদের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে জাতীয় পার্টির এমপি রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, বিএনপির সদস্য সংবিধান পরিবর্তনের কথা বলেছেন। সংবিধান নিয়ে আলোচনা করতে হলে অন্যদিন সময় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে চাঁদ দেখা নিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি অন্যায় করেননি।

এরপর বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির এমপি পীর ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ওনার বক্তব্যের সময় মনে হচ্ছিল আমি ওয়াজ মাহফিলে আছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়াউর রহমান মদের লাইসেন্স দিয়েছিলেন। এটা কতটুকু ইসলামসম্মত?’

এরপর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যে সংসদ জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। আমি খুশি হব এই সংসদের মেয়াদ আর একদিনও না বাড়লে।’

এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে থাকেন আওয়ামী লীগের এমপিরা। সংসদে হইচই-চেঁচামেচি শুরু হয়। ওই সময় স্পিকার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান বারবার। একপর্যায়ে স্পিকার বিএনপির ওই এমপির উদ্দেশে বারবার বলতে থাকেন- ‘আপনি বসুন, আপনার সময় শেষ হয়েছে।’ অধিবেশন কক্ষে তখন কিছুই শোনা যাচ্ছিল না।

পরে এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার দাবি জানান রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ‘এই সংসদকে অবৈধ বলা হয়েছে। তিনি শপথ নিয়েছেন। আবার সংসদকে অবৈধ বলছেন। তিনি ১৬ কোটি মানুষকে কটাক্ষ করেছেন, সংবিধানকে অবমাননা করেছেন। তার এই বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করা হোক।’ তখন স্পিকার বলেন, ‘এই শব্দগুলো এক্সপাঞ্জ করা হলো।’

হট্টগোলের মধ্যে রুমিন ফারহানা সরকারি দলের এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘নির্বাচনের পরপরই টিআইবির রিপোর্ট দেখেন, বিদেশি গণমাধ্যমের রিপোর্ট দেখেন, বিদেশি পর্যবেক্ষণ দেখেন। এ ছাড়া যদি ইসির রিপোর্ট দেখেন, আপনারা দেখবেন এই সংসদটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়।’

রুমিন বলেন, ‘এমন একটি সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যে সংসদে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন নেত্রী, গণতন্ত্রের জন্য যিনি বারবার কারাবরণ করেছেন, জীবনে কোনো দিন তিনি কোনো আসন থেকে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি, সেই বেগম খালেদা জিয়া সংসদে নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় কারাগারে ১২ মাসের অধিক সময় আটকে রাখা হয়েছে।’

বিএনপির এমপি বলেন, ‘একজন আইনজীবী হিসেবে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, খালেদা জিয়ার মামলার মেরিট, তার সামাজিক অবস্থান, বয়স ও জেন্ডার বিবেচনায় তিনি তাৎক্ষণিক জামিন লাভের যোগ্য।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের হুমকির কারণে তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারছেন না।’ এরপর মাইক বন্ধ হয়ে গেলে তিনি খালি গলায় বলেন, ‘আমাদের কথা বলতে দিতে হবে। কথা বলতে না দেওয়া আপনাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে।’