logo-img

২১, অক্টোবর, ২০১৯, সোমবার | | ২১ সফর ১৪৪১


বাঘের গর্জনে কাঁপলো বিশ্বকাপ!

রিপোর্টার: স্পোর্টস এডিটর | ০২ জুন ২০১৯, ১১:৪৮ পিএম


বাঘের গর্জনে কাঁপলো বিশ্বকাপ!

বাংলাদেশের জয়

বিশ্বকাপের মাঠে এতো বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড যে কারো নেই। দক্ষিণ আফ্রিকাও সেই রেকর্ড বদলাতে পারলো না। বাংলাদেশের ৩৩০ রানের জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা থেমে গেলো ৩০৯ রানে। ২১ রানের জয়ের উৎসব নিয়েই বাংলাদেশ বিশ্বকাপ শুরু হলো। 

নিশ্চিত জানুন বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত জয়ের পরে বিশ্বকাপের ফেভারিটের হিসেবটাও বদলে যাচ্ছে। যে কায়দায় এই ম্যাচে ব্যাটিং- বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ পারফরমেন্স দেখিয়েছে তাতেই মাশরাফি-সাকিবদের নিয়ে নতুন করে হিসেব কষতে হচ্ছে বিশ্বকাপের বাকি দলগুলোকে। 

বাংলাদেশ মানেই এখন বিশ্বকাপের বিপদজনক দল! দাপুটে এই জয়ে বিশ্বকাপ কাঁপিয়ে দিলো বাংলাদেশ। ক্রিকেট বিশ্ব আরেকবার শুনলো বাঘের গর্জন। যে গর্জনের কাব্যিক নাম- খেলবে টাইগার, জিতবে টাইগার!

ওভালের এই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং মোটেও পাত্তা পায়নি বাংলাদেশের পরিকল্পিত ব্যাটিংয়ের কাছে। ওপেনিং জুটিতে আসা ৬০ রানের ওপর ভর করে সাকিব-মুশফিক তৃতীয় উইকেট জুটিতে গড়লেন ১৪২ রান। মাঝের এই ব্যাটিং শক্তিতে বাংলাদেশের শেষের ব্যাটিংও পেশি দেখালো।

রান তাড়ায় নামা দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনিং জুটিটা ভাঙ্গে ৪৯ রানে। মিরাজের স্পিনে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলেছিলেন কুইন্টন ডি কক। কিন্তু মুশফিক সেই ক্যাচে হাতও লাগাতে পারেননি। বল যায় উইকেটের পেছনে। সেই বলে রান নেবো কি নেবো না-এই দোটানায় পড়ে সামনে বাড়েন ডি কক। মুশফিক সেই সুযোগে দুর থেকে থ্রো করেন। বল স্ট্যাম্পে। ডি কক রান আউট!

৪৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। খেলার বয়স তখন ৯.৪ ওভার। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার মার্করামকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি ৫১ রান যোগ করেন। সাকিব আল হাসান তার পঞ্চম ওভারে সাফল্য পান। মার্করামকে বোল্ড করেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ছিলো সাকিবের ২৫০তম উইকেট। ওয়ানডে ক্রিকেটে পাঁচ হাজার রান ও ২৫০ উইকেট শিকার ক্লাবে যোগ দিলেন সাকিব বেশ সাফল্যের সঙ্গেই। তার আগে আরো চারজন অলরাউন্ডারের এই কৃতিত্ব আছে। তবে সাকিব এই সংক্ষিপ্ত এলিট তালিকায় যোগ দিলেন সবচেয়ে কম মাত্র ১৯৯ নম্বর ম্যাচে। সেই হিসেবে তালিকার শীর্ষস্থানটা তারই থাকার কথা!

একপ্রান্ত আঁকড়ে রেখে ফাফ ডু প্লেসি স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন। তবে লক্ষ্য অনেক বড়, তাই দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়কও ইনিংসটা লম্বা করার কৌশল নেন। তবে হাফসেঞ্চুরির খানিকবাদে তিনিও ফিরে গেলেন। ৫ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় তার ৫৩ বলের ইনিংস ৬২ রানে থামিয়ে দেন মেহেদি মিরাজ। সামনে এগিয়ে খেলতে গিয়ে মিরাজের স্পিনের কাছে হার মানেন ডু প্লেসি। 

বিপদজনক হয়ে উঠা ডেভিড মিলারকে ফেরালেন মুস্তাফিজ। ভ্যান দের ডাসেন মারমুখি হতে গিয়ে উইকেট হারান। সাইফুদ্দিন তাকে বোল্ড করেন। শুরুর স্পেলটা সাইফুদ্দিনের ভালো কিছু হয়নি। কিন্তু নিজের ফিরতি স্পেলে ভ্যান দের ডাসেন এবং  ফেহলুকুওয়াওকে ফিরিয়ে সাইফুদ্দিন একাদশে তার অর্ন্তভুক্তির যোক্তিকতা প্রমান করলেন।

ক্রমশ রানরেটের মাত্রা চড়তে শুরু করে। সেই জটিলতায় ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজের বোলারদের বুদ্ধিদ্বীপ্ত কায়দায় ব্যবহার করেন অধিনায়ক মাশরাফি। 

সীমিত সম্পদ নিয়েও কিভাবে ম্যাচ জিততে হয়, এই ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফির কাছ থেকে সেই দক্ষতার দেখাই মিললো। সর্বোচ্চ আসরে আরেকজন নিজেকে চেনালেন সত্যিকারের সেরা হিসেবে; তিনি সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে ৮৪ বলে ৭৫ রান করলেন। ১০ ওভারে ৫০ রানে ১ উইকেট শিকার। এবং শূন্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচও নিলেন অনবদ্য কায়দায়। 

ক্রিকেট বিশ্ব তাকে কেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের পদবী দিয়েছে-এবার বুঝলেন তো!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ: ৩৩০/৬ (৫০ ওভারে, তামিম ১৬, সৌম্য ৪২, সাকিব ৭৫, মুশফিক ৭৮, মিঠুন ২১, মাহমুদউল্লাহ ৪৬*, মোসাদ্দেক ২৬, মিরাজ ৫*, ফেলুকুওয়াও ২/৫২, মরিস ২/৭৩, ইমরান ২/৫৭)। দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩০৯/৮ (৫০ ওভারে, ডি কক ২৩, মার্করাম ৪৫, ডু প্লেসি ৬২, মিলার ৩৮, ভ্যান দের ডাসেন ৪১, দুমিনি ৪৫, সাইফুদ্দিন ২/৫৭, মুস্তাফিজুর ৩/৬৭, মিরাজ ১/৪৪, সাকিব ১/৫০)। ফল: বাংলাদেশ ২১ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: সাকিব আল হাসান