logo-img

১৬, সেপ্টেম্বর, ২০১৯, সোমবার | | ১৬ মুহররম ১৪৪১


আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে নেতারা নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা

রিপোর্টার: অনলাইন ডেস্ক | ১৯ মে ২০১৯, ০৩:৪৫ এএম


আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে নেতারা নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে দেশ জুড়ে পুরোদমে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতারা নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ বিভাগে সাংগঠনিক কর্মকান্ড গুছিয়ে আনছেন। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নিজেদের রাজনৈতিক সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ দেওয়ারও চেষ্টা করছেন। দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন। অধিকাংশের যাতায়াত বেড়েছে গণভবন ও তৃণমূলে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের অন্তত হাফ ডজন নেতা তাদের কর্মকান্ডে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা ও সারা দেশের নেতাকর্মীদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রতিবারই আকর্ষণের জায়গা তৈরি হয় দলের সাধারণ সম্পাদক পদকে ঘিরে। দলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় দলের অন্য নেতারা নড়েচড়ে বসেছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে এ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম।

এ বিষয়টি মাথায় রেখেই ওবায়দুল কাদেরের শুভাকাক্সক্ষী ও অনুগতরা তার সুস্থতা, হাঁটাচলা ও ব্যায়ামের বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ইতোমধ্যে ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরে এসেছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, ওবায়দুল কাদেরের প্রাণশক্তি কমেনি। ধীরে ধীরে তিনি আরও সুস্থ হয়ে উঠবেন। তারপরও বয়স বিবেচনায় সরকার ও দলের গুরু দায়িত্ব পালন নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেছে বলে মনে করেন অনেকে। তারা বলছেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় তার ওপর দল ও সরকারের বাড়তি কাজের চাপ স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এসব বিষয় সামনে রেখে আওয়ামী লীগের আগামী সম্মেলনকে ঘিরে গতবারের মতো সাধারণ সম্পাদক পদে এবারও সামনে চলে এসেছে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাকের নাম। নেতাকর্মীদের কাছে সজ্জন হিসেবে পরিচিত ড. রাজ্জাক মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত নির্বাচনে দলের ইশতেহার প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রেখেছেন। সম্মেলনকে সামনে রেখে দলীয় ও সরকারি বিভিন্ন কর্মকান্ডে ড. রাজ্জাকের তৎপরতা বেড়েছে। মন্ত্রণালয় সামলানোর পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও।

ওবায়দুল কাদেরের অবর্তমানে গঠনতন্ত্র (২৫ এর গ) অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ। কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক ও সম্পাদকমন্ডলীর বৈঠকসহ দলের দিবসকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলের সমন্বয় করেছেন। দেশ জুড়ে সাংগঠনিক সফরও শুরু করেছেন।

ওবায়দুল কাদেরের অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিকভাবে নিজেকে আরেকবার মেলে ধরেন হানিফ। যশোর, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বেশ কয়েকটি জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় অংশ নেন। এ ছাড়া নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও সদর উপজেলায় ফণীর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।

সম্মেলনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকও এ সময়ে নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ রংপুরের কয়েকটি উপজেলায় সম্মেলনের তারিখ দিয়েছেন। রাজধানীতে বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় নির্বাচনের সময় থেকেই দলীয় কর্মকান্ডে সময় দিয়ে আসছেন নানক। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন ও ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন কার্যক্রমও তদারক করে আসছেন তিনি।

আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমানও সম্মেলনকে ঘিরে নিজেকে অনেক বেশি করে মেলে ধরার চেষ্টা করছেন। তিনি সম্প্রতি যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত ছিলেন। চলতি মাসেই খুলনা বিভাগের প্রায় সব জেলার বর্ধিত সভা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়ন বঞ্চিত এ নেতা সময়-সুযোগ পেলেই নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করছেন আগামীর রাজনীতির জন্য। সর্বশেষ জটিল অবস্থায় থাকা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়টিও তিনি সমন্বয় করছেন। এর আগে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের সব জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতাদের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভার আয়োজন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদও দলীয় রাজনীতিতে খুব সক্রিয়। রাজনীতিতে ধারাবাহিকতা ধরে দলে ও সরকারে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন তিনি। আগামী সম্মেলনকে ঘিরে হাছান মাহমুদের তৎপরতাও বেড়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নিচ্ছেন। বিএনপিকে ঘায়েল করে এমন বক্তব্য রেখে যাচ্ছেন। ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে প্রায়ই সংবাদ সম্মেলন করেন বিভিন্ন ইস্যুতে। প্রচার উপ-কমিটির ব্যানারেও বিভিন্ন আলোচনা সভার আয়োজন করে যাচ্ছেন নিয়মিত। ১০ মে এ কমিটির ইফতার আয়োজনও বেশ সাড়া ফেলেছে। চট্টগ্রামে দলের বর্ধিত সভায়ও অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীও ধারাবাহিকভাবে দলের রাজনীতিতে বেশ সক্রিয়। রাজনীতির সজ্জন ও পরিশীলিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি সমাদৃত। বৃহত্তর উত্তরাঞ্চলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করে গড়ে তুলেছেন তিনি। সর্বশেষ ৯ মে থেকে টানা তিনদিন নিজ জেলায় একগুচ্ছ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক অ্যাডভোকেট আমজাদ হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ১৭ মে তার নির্বাচনি এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে ইফতারের আয়োজন হয়। শনিবার তিনি যান তার জেলার বিজিবির আয়োজনে এক ইফতারে। দলীয় সভা-সেমিনার ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বুদ্ধিদীপ্ত বাগ্মিতায় বিএনপিকে ঘায়েল করে প্রতিনিয়ত বক্তব্য বিবৃতি রাখছেন খালিদ মাহমুদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘লিডারশিপ’ নিয়ে দীর্ঘদিন তিনি মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে রাজশাহী বিভাগে সাংগঠনিক কর্মকান্ড কিছুটা শিথিল থাকলেও আগামী ২৩ মে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সম্মেলন ঘিরে এক অদৃশ্য তৎপরতা থাকলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতারা নিজেদের প্রার্থী হিসেবে দাবি করছেন না। তারা বলছেন, আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে সারা দেশের তৃণমূলে সম্মেলনের প্রস্তুতি কার্যক্রম চলছে। এ মহাযজ্ঞে দলের নেতারা কাজ করছেন। ইতোমধ্যে সারা দেশে সাংগঠনিক সফর শুরু হয়েছে।