logo-img

২৭, মে, ২০১৯, সোমবার | | ২২ রমজান ১৪৪০


ক্যাম্প ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা

রিপোর্টার: অনলাইন ডেস্ক | ১৬ মে ২০১৯, ০৩:৫৬ পিএম


ক্যাম্প ছেড়ে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ত্রিশটি ক্যাম্পে এগারো লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।  মিয়ানমারের সামরিক জান্তার নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়া এসব রোহিঙ্গারা প্রতিদিন ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছেন। ইদানীং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

কাজের খোঁজ ছাড়াও শরণার্থীশিবিরের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে ও ধনী হওয়ার আশায় স্থানীয় দালাল চক্রের সহযোগিতায় বিদেশ পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছায় অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে যাচ্ছেন বলে অনেকে জানান। 

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছড়িয়ে পড়া এসব রোহিঙ্গাদের আটক করতে পারলে ও দালালরা সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার দাবি এখানকার সচেতন মহল। 

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের একাধিক পয়েন্টে সেনা বাহিনী, পুলিশ ও বিজিবির চেকপোস্ট রয়েছে। এদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয়রা বলেছেন, যেখানে চেকপোস্ট পার হতে হলে জাতীয় পরিচয় দেখাতে হয়। নানান ধরনের ঝামেলার সম্মুখীন হতে হয়। এত রোহিঙ্গা কিভাবে চেকপোস্ট অতিক্রম করতে পারে বলে তারা বিস্ময় প্রকাশ করেন। 

দেখা গেছে, উখিয়ার ফলিয়া পাড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভোরে রোহিঙ্গারা কাজের সন্ধানে বের হন। এ ছাড়া কতিপয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টাকার বিনিময়ে তাদের অবাধে বাইরে যেতে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

 

উখিয়া পুলিশের হাতে আটককৃত একাধিক রোহিঙ্গা জানান, ‘হাতে কোন কাজ নেই। অল্প টাকায় বিদেশি যাওয়ার আশায় ঘর থেকে বের হয়ে ছিলাম’। 

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গা ওজি উল্লাহ জানান, তারা বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতেন। প্রচণ্ড গরমে ছোট ছেলে মেয়েদের নিয়ে পলিথিনের ছাউনিতে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই কোথাও  ভাড়া বাসা নিয়ে আপাতত থাকার জন্য কক্সবাজারের দিকে যাচ্ছি। 

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাবেকুর নাহার বলেন, শহরে কাজ দেবেন বলে আমাকে নিয়ে গিয়ে ছিল। এরপর কোথায় নিয়ে গিয়েছিল আমি জানি না। 

গত কয়েক দিনে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ১৭১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করেছে। আটককৃত রোহিঙ্গাদের নিজ নিজ ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন। 

কয়েক সপ্তাহ আগে ঢাকার খিলক্ষেত থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৩ রোহিঙ্গাকে আটক করেন। খিলক্ষেত থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে ক্যাম্প ছেড়ে রাজধানীতে ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা। আটক রোহিঙ্গারা মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে জানান তিনি। 

উখিয়ার সীমান্তবর্তী পালংখালি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা করেন। চলাচলে কোন বাধা নেই। এখন কক্সবাজার জেলা জুড়ে তাদের অবাধ বিচরণ। যা উদ্বেগজনক’। 

উখিয়ার বালুখালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাকের মাঝি, নুরুল আমিন ও মুসা আলি মাঝি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কোন কাজ নেই। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অনেক রোহিঙ্গাদের সহায় সম্পত্তি ছিল। সেখানকার মগ সেনারা পুড়িয়ে দিয়েছে। তারা কাজ চান। এছাড়া দালাল চক্র মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জাপান ও শ্রীলঙ্কায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে বিপদেও পড়ছেন’। 

উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সীমানা প্রাচীর দিতে হবে। না হলে তারা অচিরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাবে। 

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন বলেন, ‘১১ লাখ রোহিঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মূল সড়কে সাতটি পুলিশের চেকপোস্ট  রয়েছ ’। তিনি আরও বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে আটক ৫৮ হাজার রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়।