logo-img

২৭, মে, ২০১৯, সোমবার | | ২২ রমজান ১৪৪০


জিম্বাবুয়েতে বন্যা প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু

রিপোর্টার: বিবিসি | ২১ মার্চ ২০১৯, ০১:৫৪ পিএম


জিম্বাবুয়েতে বন্যা প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু

মোজাম্বিকে ঘূর্ণিঝড় ইদাই আক্রান্তদের কাছে পৌঁছতে হিমশিম খাচ্ছে আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলো। দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, বিপর্যয়কারী বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে আক্রান্ত হয়ে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। গাছ, বাড়ির ছাঁদে আশ্রয় নিয়ে আছে শত শত মানুষ। খবর বিবিসির।

মোজাম্বিকে ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বন্দর শহর বেইরা। ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, সেখানকার মানুষদের জন্য তাদের কাছে মাত্র দুই থেকে তিন দিনের জন্য পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি রয়েছে।

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে প্রায় ৩০০ মানুষের মৃত্যু নিশ্চিত করা গেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। এর মধ্যে, খাদ্য ও খাবার পানির সংকটের কারণে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি।

গত বৃহস্পতিবার ঘণ্টায় ১৭৭ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে মোজাম্বিকে আঘাত হানে ইদাই। সেখান থেকে ধ্বংসাত্মক গতিতে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের দিকে।

ডক্টরস উইদাউট বরডারসের একজন জরুরি অবস্থা সমন্বয়ক গেট ভারডঙ্ক বলেন, আপনি এখানে (মোজাম্বিক) আসার পর সবার আগে যেটা দেখতে পারবেন তা হচ্ছে বিধ্বস্ততা। মানুষজন অবিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করছে। ওই পানিতে নিউমোনিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের জীবাণু থাকতে পারে। এটা একটা বড় সমস্যা তৈরি করবে।

এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাব অনুসারে, মোজাম্বিকে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ২০০ মানুষ মারা গেছে। এখনও দেশের অনেকাংশে পৌঁছাতে পারেনি উদ্ধারকারী দল। তাই মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস এন্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কর্মকর্তা ক্যারোলাইন হ্যাগা বলেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বুজি নদীর নিকটবর্তী বেইরা শহরের পশ্চিমাঞ্চল।

তিনি জানান, সেখানে ত্রাণকর্মীরা বিস্কুট, পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বিতরণ করেছে।

হ্যাগা বলেন, সেখানে হাজার হাজার মানুষ গাছ ও বারির ছাদের ওপর উদ্ধারকারীদের অপেক্ষায় রয়েছে। আমাদের হাতে সময় নেই। তারা সেখানে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষা করছে। আমাদের পক্ষে সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব নয়। তাই আমরা সবার আগে শিশু ও নারীদের সরিয়ে নিচ্ছি।

মোজাম্বিকের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছে, প্রায় ১ লাখ মানুষ ঝুঁকিপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, ইদাইয়ের আঘাতে মোজাম্বিক ছাড়া জিম্বাবুয়েতে অন্তত ৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২১৭ জন। এছাড়া, মালাওয়িতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ।