logo-img

২৩, এপ্রিল, ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৭ শা'বান ১৪৪০


জেনে নিন প্রিয়তির এই ছবির পেছনের রহস্য!

রিপোর্টার: অনলাইন ডেস্ক | ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৪৯ পিএম


জেনে নিন প্রিয়তির এই ছবির পেছনের রহস্য!

নানা সময়ে নানা সাজে হাজির হন মডেল, অভিনেত্রীরা। কখনো সাধারণ মানুষ, কখনোবা রাজা-রানীর চরিত্রে। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মিস আয়ারল্যান্ড খ্যাত মাকসুদা আক্তার প্রিয়তি এবার হাজির হলেন হাজার বছরের এক রহস্যময়ী নারী রূপে। মিসরীয় রানীরূপে হাজির হয়েছেন প্রিয়তি। প্রিয়তির ফেসবুক টাইমলাইনে প্রকাশিত ছবিটির প্রশংসা করেছেন তার ভক্তরা।

মিসরীয় রানী আঙ্খসেনামুন-এর মমির আদলে নিজেকে তৈরি করা আদৌ সহজ কাজ ছিল না। কাজটা বেশ কষ্টকর ছিল। ফটোশুটের সেটটিও ছিল ব্যয়বহুল। ৬ ঘণ্টা লেগেছিল প্রিয়তির বডি পেইন্টিং করতেই। শুধু তাই নয়, এটাই প্রিয়তির সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকে করা কাজ।

বিখ্যাত ফটোগ্রাফার জন মরান নিজের ক্রিয়েটিভিটির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই এই ছবিটি তুলেছেন। প্রিয়তির বডি পেইন্টিং করেছেন ম্যারি মরফি।

এই ফটোশুটের মূল লক্ষ্য কি ছিল? জানতে চাইলে প্রিয়তি বলেন, ‘জন মরান সব সময় ভিন্ন ধরনের কাজ করেন। ওনার এই শুটের প্রস্তুতি চলে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে। আঙ্খসেনামুন এর রিক্রিয়েট করার ইচ্ছা ছিল ওনার কয়েক বছর ধরেই। তবে তিনি ওনার মনের মতো কোন মডেল খুঁজে পাননি যাকে দিয়ে   আঙ্খসেনামুনের সৌন্দর্যের কাছাকাছি যাওয়া যায়। ওরা বলেছে, আমি নাকি আঙ্খসেনামুনের কাছাকাছি চেহারার। ফলে পরে তারা যখন আমাকে দেখে, তখন জন দ্বিতীয় আর কোন চিন্তা না করে অফার করেন, যা আমার কাছে সম্মানের।’

উল্লেখ্য রানী আঙ্খসেনামুন ছিলেন মিসরের অষ্টাদশ রাজবংশের একজন রানী। আনুমানিক ১৩৪৮ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম আঙ্খেসেনপাতেন। পিতা ফেরাউন আখেনাতেন। ফেরাউনের ছয় মেয়ের মধ্যে আঙ্খসেনপাতেন ছিলেন তৃতীয়। তার মা ছিলেন রানী নেফেরতিতি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে সৎ ভাই তুতানখামেনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বিয়ের পর নাম পরিবর্তন করে আঙ্খসেনপাতেন থেকে হয়ে যান আঙ্খসেনামুন। শুধু তাই নয়, পিতার মৃত্যুর পরে তার নাম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মও বদলে ফেলেন। রানী আঙ্খসেনামুনের তারুণ্য, তার দুঃখ-কষ্ট, বেদনার গল্প প্রাচীন মিসরের নানা চিত্রে ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। আনুমানিক ১৩২৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের পরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া কেভি৬৩ ও কেভি২১ দুটি মমির ডিএনএ পরীক্ষার পর অনুমান করা হয় যে এর যেকোনো একটিই রানী আঙ্খসেনামুনের মমি।