logo-img

১৭, জুন, ২০১৯, সোমবার | | ১৩ শাওয়াল ১৪৪০


পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারী চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার

রিপোর্টার: নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:৩৬ পিএম


পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারী চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার

দেখতে ক্যাপসুলের মতো। ভেতরে রয়েছে একটি ছোট ব্যাটারিসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ দিয়েই তৈরী। সুক্ষ্ম ভাবে এটি কানের ভিতর প্রবেশ করানো যায়। এর মাথায় রয়েছে চিকন অপটিক ফাইবারের একটা হাতল, এর মাধ্যমেই সহজে এই বিশেষ যন্ত্রটি কানের ভেতর থেকে বের করা যায়। 
এটি কানের ভিতরে থাকলে অনায়াসে বাহিরের যে কোন কারও সঙ্গে কথা বলা যায়। তবে এই বিশেষ যন্ত্রটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশ্নের উত্তর শুনে পরীক্ষার খাতায় লিখার কাজে জড়িত একটি চক্র। 

এই চক্রের  চক্রের ৭ সদস্য ধরা পড়েছে আইনশৃংখলা বাহীনির হাতে। 

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালি পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারী চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হল- সোহেল রানা, মাহমুদুল,  আনসারুল ইসলাম,  শ্রী দেবাশীষ । এর মধ্যে তিনজন শিক্ষার্থী-  রবিউল আউয়াল, রাজিউর রহমান ও  রেজাউল করিম।
  
 গত ৭ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর ও কলাবাগান এলাকা হতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ সময়  প্রশ্নপত্র প্রেরণের ৮ টি ডিভাইস, ২৯টি ব্যাটারী, ৩টি পেনড্রাইভ, ৯টি ব্লুটুথ ডিভাইস, ৯টি বিভিন্ন অপারেটরের সীমকার্ড ও ৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

শনিবার ৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মাছুদুর রহমান পিপিএম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃতরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে থাকে। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ চক্রের কয়েকজন সদস্য ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে। প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়া মাত্র জব্দকৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে তা কেন্দ্রের বাহিরে অবস্থানরত উক্ত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নিকট প্রেরণ করে। বাইরে অবস্থানরত সদস্যরা দ্রুত প্রশ্নপত্র সমাধান করে পুনরায় তা তাদের চুক্তি অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের নিকট সরবরাহ করে। এ প্রক্রিয়ায় তারা অংশগ্রহনকারী পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে অবৈধভাবে মোটা অংকের অর্থ সংগ্রহ করে।
এ কাজে তারা প্রতিটি বিষয়ে দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে উত্তর বের করতো। তাছাড়া, পরীক্ষা ভেদে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তিতে চক্রটি কাজ করতো। চুক্তি মোতাবেক চাকরীর পর টাকা প্ররিশোধ করা হতো। 
আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান,  ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান।