logo-img

১৭, জুলাই, ২০১৯, বুধবার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০


হবিগঞ্জ-১ আসনের হলফনামার চিত্র : গরিব ও শিল্পপতি, কম শিক্ষিত সুশিক্ষিত

রিপোর্টার: এম,এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ,হবিগঞ্জ | ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৫৩ পিএম


হবিগঞ্জ-১ আসনের হলফনামার চিত্র : গরিব ও শিল্পপতি, কম শিক্ষিত সুশিক্ষিত

শিল্পপতি শেখ সুজাতের স্ত্রী সন্তানের সম্পদ নেই॥ ড.রেজা কিবরিয়া সবচেয়ে শিক্ষিত ও ধনী প্রার্থী। গরিব ও কম শিক্ষিত প্রার্থী হলেন বর্তমান সাংসদ বাবু।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে যেকোনো নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামায় সম্পদের বিবরণীসহ আটটি তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। এই তথ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত কি না, অতীতে কোনো মামলা ছিল কি না, সেই সঙ্গে পেশা ও আয়ের উৎস, ব্যাংকে বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে দায়দেনা আছে কি না।


সেদিক থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ হবিগঞ্জ-১ আসনের মধ্যে ১২ জন প্রার্থী তাদের হলফনামা জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বিশিষ্ট শিল্পপতি লন্ডন প্রবাসী শেখ সুজাতের স্বর্ণ আসবাবপত্র আছে সাড়ে ১০ হাজার টাকার: লন্ডন প্রবাসী স্ত্রী সন্তানের সম্পদ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। ড.রেজা কিবরিয়া সব চেয়ে শিক্ষিত ও ধনী প্রার্থী। তাঁর নিজ নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে নগদ ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। সবচেয়ে গরিব ও কম শিক্ষিত প্রার্থী হলেন বর্তমান সাংসদ এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু তার নামে নগদ রয়েছে ১২ লাখ টাকা। এখানে হেভিয়েট ৫ প্রার্থীর সম্পদের বিবরণী দেওয়া হল।


ড. রেজা কিবরিয়া: হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে গণফোরাম মনোনীত প্রার্থী ড. রেজা কিবরিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ডি.ফিল। তাঁর পেশা অর্থনীতিবিদ। তাঁর শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে বাৎসরিক ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯৫ টাকা, পরামর্শক ইত্যাদি থেকে ৮৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০ টাকা আয় হয়। তাঁর নিজ নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে নগদ ৯৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এছাড়া বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে ১৭ লাখ টাকা, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরণের সঞ্চয়পত্রে বা স্থানীয় আমানতে বিনিয়োগ ৪০ লাখ টাকা, গাড়ি অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ১০ লাখ টাকা, স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতু অর্জনকালীন সময়ে মূল্য ৫ লাখ ১০ হাজার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী অর্জনকালীন সময়ে মূল ২ লাখ টাকা, আসবাবপত্র অর্জনকালীন সময়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। তাঁর অকৃষি জমি ঢাকা পূর্বাচলে দশ কাঠা রয়েছে। যার অর্জনকালীন মূল্য ৮ লাখ টাকা, ধানমন্ডিতে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির বিনিময়ে ১৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। ফ্ল্যাটগুলো হস্তান্তর হয়নি। এছাড়া পৈতৃক সূত্রে গুলশানে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। যার অর্জনকালীন মূল্য ৬০ লাখ টাকা। এ ফ্ল্যাটটি তাঁর মরহুম পিতা শাহ এএমএস কিবরিয়া জীবদ্দশায় তাঁর নামে ক্রয় করেছিলেন। অপরদিকে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে যৌথ মালিকানায় তাঁর দুই বিঘা জমি রয়েছে। সেখানে তিনি পাবেন ৪৩ শতাংশ। এছাড়া যৌথ দুই কক্ষের কটেজ রয়েছে। এর ৯ শতাংশের মালিক তিনি। ড. রেজা কিবরিয়ার এইচএসবিসি ব্যাংকে ত্রিশ লখ টাকা এফডিআর এর বিপরীতে ওভারড্রাফট লোন রয়েছে ২০ লাখ ১০ হাজার ৫৩৫ টাকা।


গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ: হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ এর শিক্ষাগত যোগ্যতা বি,কম। তাঁর পেশা ব্যবসা। তার কৃষিখাত, বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে বার্ষিক কোন আয় নেই। পরামর্শক ইত্যাদি থেকে তার বাৎসরিক আয় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে ৪৬ লাখ ৩৮ হাজার ৪শ’ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৬ হাজার ১শ’ টাকা জমা রয়েছে। তাঁর ‘লিমিটেড কোম্পানী’র পরিচালক হিসেবে ১৮ লাখ ৭২ হাজার ৬শ’ টাকার শেয়ার রয়েছে। ব্যবহারের স্বর্ণ রয়েছে ৪ তোলা। বিয়েতে প্রাপ্ত টিভি ফ্রিজসহ ১০ হাজার টাকার মালামাল রয়েছে। তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেন তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু সেগুলো ভাগ বন্টন করা হয়নি। তাঁর জামানত বিহীন ঋণ রয়েছে ৩ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।


শেখ সুজাত মিয়া: হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারী এডুকেশন, যুক্তরাজ্য। তিনি পেশা শেখ প্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ লিঃ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ক্যাটারিং ও রিয়েল এস্টেট, ৭/৯ গোল্ড স্ট্রিথ, নটিংহাম যুক্তরাজ্য। কৃষিখাত থেকে তার বাৎসরিক আয় ৩৫ হাজার টাকা, বাড়ি/এপার্টমেন্ট/দোকান বা অন্যান্য ভাড়া ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ২ লাখ টাকা, অন্যান্য খাত থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা। তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত ৪৪ হাজার ৯৬২ টাকা। গাড়ি (অর্জনকালীন সময়ে মূল্যসহ) ৬৬ লাখ ৪৮ হাজার ২৯ টাকা, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু ও পাথর নির্মিত অংলকারাদি অর্জনকালীন মূল্য ৪ হাজার টাকা, আসবাবপত্র রয়েছে ৬ হাজার ৫শ’ টাকার। তাঁর অকৃষি জমি ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ১২ লাখ ৪৯ হাজার ৫শ’ টাকা, দালান, আবাসিক বা বাণিজ্যিক সংখ্যা, অবস্থান ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা তিনি ইতোপূর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচনের পূর্বে ভোটারদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এর মধ্যে রাস্তা নির্মাণের ৬০%, মসজিদ, মন্দির, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্মাণের প্রতিশ্রুতি ৬৫%, ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণের ৪০% সামাজিক প্রতিশ্রুতি ৫০% বাস্তবায়ন করেছেন।


আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী: হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে হবিগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাস্টার্স। পেশায় তিনি রাজনীতি। কৃষিখাতে তাঁর বাৎসরিক আয় ৪০ হাজার টাকা। শেয়ার, সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে বাৎসরিক আয় ২ হাজার ৬২২ টাকা। চাকুরি থেকে পেয়েছেন ২৩ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭৫ টাকা। তাঁর নিজের কাছে নগদ রয়েছে ৭৭ লাখ ৩ হাজার ৩৭৯ টাকা। আর স্বামীর নামে রয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ২৯৯ টাকা।

নিজ নামে ব্যাংকে জমা রয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৮৪ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে নিজের নামে কিছু না থাকলেও স্বামীর নামে রয়েছে ৪২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। তাঁর নিজের ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রোজ প্র্যাডো টিএক্স রয়েছে। স্বামীর রয়েছে ১২ লাখ টাকার যানবাহন। নিজের কাছে থাকা স্বর্ণ, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের মূল্য জানা নেই তাঁর। তবে স্বামীর ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। নিজের কৃষি জমির মূল্যও তার জানা নেই। তবে স্বামীর কৃষি জমির মূল্য ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০ টাকা। নিজের নামে থাকা অকৃষি জমির মূল্য ৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং স্বামীর নামে থাকা অকৃষি জমির মূল্য ৩১ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা।


এমপি মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু: হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু’র শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি। তিনি নবীগঞ্জে ‘জুহি ছিটঘর’র স্বত্ত্বাধিকারী। তাঁর বাৎসরিক আয় কৃষিখাতে ৪৫ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬০ টাকা।

সংসদ সদস্য হিসেবে বছরে সম্মানী পেয়েছেন ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সাথে অন্যান্য ভাতাদি পেয়েছেন ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৫০৮ টাকা। নিজের নামে তাঁর নগদ রয়েছে ১২ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৫ লাখ টাকা। ৬০ লাখ টাকা মূল্যের একটি টয়োটা ল্যান্ডক্রোজার রয়েছে তাঁরা। স্বর্ণ রয়েছে নিজের ৫ ভরি ও স্ত্রীর ১০ ভরি। ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে রঙিন টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল সেট।

রয়েছে ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজের নামে ৩ একর ও স্ত্রীর নামে ২.৩০ একর কৃষি জমি রয়েছে। অকৃষি জমি রয়েছে ২০ একর। ঢাকার পূর্বাচলে সরকারের দেয়া ৩ কাটার একটি প্লট রয়েছে তাঁর। এছাড়া ২টি দালানসহ ১২ শতকের পৈত্রিক বাড়ির ৭ ভাগের ১ ভাগ পান তিনি।