logo-img

১৭, জুন, ২০১৯, সোমবার | | ১৩ শাওয়াল ১৪৪০


আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে আয় ১২ কোটি টাকা

রিপোর্টার: ।। সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট।। | ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৩:১২ এএম


আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি থেকে আয় ১২ কোটি টাকা

বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজে শেষ হলো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম। গতকাল সোমবার শেষ হওয়া চার দিনের এই কার্যক্রমে দলীয় প্রার্থী হতে ৩০০ আসনের বিপরীতে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন মোট চার হাজার ২৩ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম জমা দিয়েছেন। এখনও যারা জমা দিতে পারেননি, তাদের জন্য ফরম জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিপুল আগ্রহ সৃষ্টি হওয়ায় এবার দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি গত নির্বাচনের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। এবার মনোনয়ন ফরম বিক্রি বাবদ ক্ষমতাসীন দলের আয় হয়েছে ১২ কোটি ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফরমপ্রতি ৩০ হাজার টাকার হিসাবে এই পরিমাণ অর্থ দলীয় ফান্ডে জমা পড়েছে।

এদিকে, মনোনয়ন ফরম বিতরণের শেষ দিন গতকালও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডি কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং তাদের সমর্থক ও নেতাকর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। তারা ধানমণ্ডি কার্যালয়-সংলগ্ন নতুন ভবনে (নির্বাচনী কার্যালয়) স্থাপিত আটটি বিভাগীয় বুথ থেকে ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এদিনও মিছিল ও ব্যাপকসংখ্যক সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহে আসেন। অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী রীতিমতো শোডাউন করেছেন সেখানে। আর নিজ নিজ প্রার্থীর সমর্থনে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা মুখর রেখেছেন গোটা এলাকা।

গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়। সকালের দিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হাতে একসঙ্গে নিজ নিজ মনোনয়ন ফরম তুলে দেন দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান। সব মিলিয়ে এদিন ৭৩১ জন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফরম কেনা ও জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে জমা দেওয়ার সময় আরও চার ঘণ্টা বাড়িয়ে রাত ১০টা করা হয়। এর পরও যারা জমা দিতে পারেননি, তাদের জন্য আজ মঙ্গলবারও সময় দেওয়া হয়েছে।

গত শুক্রবার থেকে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমাদানের এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিন এক হাজার ৩২৯, দ্বিতীয় দিন শনিবার এক হাজার ১৩২, তৃতীয় দিন রোববার ৮৩৫ এবং গতকাল শেষ দিন ৭৩১ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ফরম কিনেছেন।

রাতে ধানমণ্ডি কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিসাব-নিকাশ তুলে ধরেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি জানান, গত চার দিনে তারা মোট চার হাজার ২৩টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করেছেন। এটি তাদের প্রত্যাশার বাইরে ছিল।

তিনি বলেন, চার হাজারের মতো ফরম জমা পড়েছে। তবে অনেকেই আসতে পারেননি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য জোগাড় করতে হয়তো সময় লেগেছে। সে কারণে আগামীকালও (আজ মঙ্গলবার) ফরম জমা দেওয়া যাবে। এজন্য দলের দপ্তর আগামীকালও (মঙ্গলবার) খোলা থাকবে।

হানিফ বলেন, মনোনয়ন ফরম বিতরণের জন্য এখানে চার দিন ধরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন। সেজন্য রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের কারণে কিছুটা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই দুর্ভোগে যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি। চেষ্টা করা হবে, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের আর কোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।

কবে নাগাদ আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন চূড়ান্ত করবে। আওয়ামী লীগ যদি এককভাবে নির্বাচন করত, তাহলে দলীয় প্রার্থীদের বাছাইপর্ব শেষ করেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা যেত। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেহেতু জোট আছে এবং আরও দু-একটি দলসহ যুক্তফ্রন্টও জোটগতভাবে নির্বাচন করতে পারে- সেসব বিবেচনা থেকে প্রথমে আওয়ামী লীগ ও পরে জোটের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এতে স্বাভাবিকভাবে কিছু সময় বেশি লাগবে। আশা করি, ২৮ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ দিনের অন্তত দু-তিন দিন আগেই সব প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে ঘোষণা করা যাবে।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তারা আশা করছেন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম থেকেই বলে এসেছেন, আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী। তাই তিনি শুরু থেকেই চেষ্টা করেছেন সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের। সেই ধরনের নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে অন্য দলগুলোও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করে শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, আখতারুজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। চার দিন ধরে মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়ার কার্যক্রমসহ শৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত দলের উপকমিটির সহ-সম্পাদক ও সদস্য এবং সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট দুই হাজার ৬০৮ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন। ফরম বিক্রি থেকে গতবার আওয়ামী লীগের তহবিলে জমা পড়েছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। সেবার প্রতিটি ফরমের মূল্য ২৫ হাজার টাকা ধরা হলেও এবার পাঁচ হাজার বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়।