logo-img

১৭, জুলাই, ২০১৯, বুধবার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০


হবিগঞ্জ-১আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী

রিপোর্টার: ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ১০:১৭ পিএম


হবিগঞ্জ-১আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। এরই মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া লেগে গেছে দেশের সংসদীয় আসনগুলোর বিভিন্ন এলাকায়। মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়মিত জনসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলে। সে সাথে দলীয় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অধিকাংশ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশও করেছে। তবে দলের হাই কমান্ড প্রার্থী তালিকা পবির্তন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন।

হবিগঞ্জ-১আসনেও বইছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১আসনে মনোনয়ন-দৌড়ে এগিয়ে আছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী ।তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ও সাধারন জনগনের সাথে রয়েছে তার সুসম্পর্ক তার সম্পর্ক ভালো। তৃণমূল মানুষের সাথে রয়েছে তার যোগাযোগ । নেতাকর্মীরাও তাকেই চায়। তাই তিনি আশা করছেন দলের মনোনয়ন নিজের পক্ষে আসবে। এছাড়া বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। সে দৌড়েও এগিয়ে রয়েছে আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।

অনেকে হয়তোবা রাজনীতি করেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে, নেতা হতে। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি শুধু ঋণ শোধের জন্য। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরঋণী

সাংসদ আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সহ-সম্পাদক। রাজনীতির শুরুটা পরিবার থেকেই। শিক্ষাজীবনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বৃত্তি নিয়েই পড়াশোনা করেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকে হয়তোবা রাজনীতি করেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে, নেতা হতে। আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি শুধু ঋণ শোধের জন্য। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরঋণী। আমার খুব দুঃসময়ে তিনি পাশে না দাঁড়ালে আমি এ পর্যায়ে আসতে পারতাম না। আমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেত। তখন আমি স্নাতকের শিক্ষার্থী। টিউশনি করে পড়ালেখার খরচ চালানো যাচ্ছিল না। আমি মাঝে মধ্যে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বেশি করে জানতে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর বাসায় যেতাম। সেখানে আমার মরহুম বাবার পরিচিতজনরা আমাকে বললেন (তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী) শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষা বৃত্তির জন্য লিখিত আবেদন করতে। আবেদনের এক মাসের মধ্যে আমি বঙ্গবন্ধু ট্রাস্ট থেকে এক হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি পেলাম এবং এটি পরবর্তীতে দুই হাজার টাকা হয়। বিভিন্ন কারণে বঙ্গবন্ধুর এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমার ভালোবাসা ও ঋণ রয়েছে। আমি এ ঋণ শোধ করতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করি। আমি চাই সত্ভাবে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করতে। আমার বাবার দেওয়া শিক্ষা আর ধানমণ্ডি ৩২ আমাকে রাজনীতির প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে।


কেয়া চৌধুরী বলেন, আমি তৃণমূল রাজনীতি করি। সপ্তাহের ছয়দিনই থাকি এলাকায়। আর একদিন স্বামী সন্তানের কাছে। মানুষের জন্য কাজ করি। কাজের স্বচ্ছতা রাখি। আমি সব কাজের হিসেব সামাজিক মাধ্যমে দেই। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, অবশ্যই হবিগঞ্জ থেকে চাইবো। তবে, নেত্রীর কাছে আমি যোগ্য কিনা সেটাও দেখতে হবে। নেত্রী যদি মনে করেন, আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি আসনটি আনতে পারবো তাহলে তিনি অবশ্যই আমাকে দিবেন। আশা করি সেই জায়গাটি আমি তৈরি করতে পেরেছি।

জানা যায়,

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী একজন সংসদ সদস্য। তাঁর পিতা মানিক চৌধুরী, যিনি ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি হবিগঞ্জ-সিলেটের নারী আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

কেয়া চৌধুরী জীবনী

কেয়া চৌধুরী ২০১২ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে একজন আইনজীবী। ব্যক্তিগত জীবনে কেয়া চৌধুরী ২ সন্তানের জননী।

মানিক চৌধুরী জীবনী

কমান্ড্যান্ট মানিক চৌধুরী (২০ ডিসেম্বর ১৯৩৩ - ১০ জানুয়ারি ১৯৯১)হলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ২০১৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি

তিনি ১৯৩৩ সালের ২০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার সন্তান এডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী সংসদ সদস্য হিসাবে হবিগঞ্জ জেলার প্রতিনিধিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবদান

বৃহত্তর সিলেটে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি; মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ সমরে সরাসরি অংশগ্রহণের পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদেরও সংগঠিত করেন তিনি।

“কমান্ড্যান্ট” উপাধী লাভ

মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করতে অস্ত্রের প্রয়োজন তার নেতৃত্বে হবিগঞ্জ সরকারি অস্ত্রাগার লুট করা হয় এবং এপ্রিলের প্রথম দিকে সরাসরি অংশ নেন সিলেট অঞ্চলের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী ও বড় যুদ্ধ হিসাবে পরিচিত শেরপুর-সাদিপুর যুদ্ধে। সম্মুখ সমরে অংশ নেয়ার পাশাপাশি ৩ নং ও ৪ নং সেক্টরে সৈন্য, অস্ত্র, খাদ্য সরবরাহসহ ভারতের খাৈয়াই ও কৈলাশহরের মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করায় মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে চীফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল এম. এ. রব তাকে সিভিলিয়ান হওয়া সত্ত্বেও “কমান্ড্যান্ট” উপাধিতে ভূষিত করেন।

রাজনৈতিক জীবন

তিনি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে হবিগঞ্জ থেকে এম.এন.এ. এবং ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ছিলেন হবিগঞ্জ মহুকুমার গভর্ণরও। তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদের জন্য মানিক চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে চার বছর কারারুদ্ধ করে রাখা হয়।

মৃত্যু

তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে যথাযথ চিকিৎসা, এমনকি একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও পিজি হাসপাতালে কোনো ওয়ার্ডে একটি সিট বরাদ্দ পাননি। এমতাবস্থায় ১৯৯১ সালের ১০ জানুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পুরস্কার ও সম্মননা

“শ্যামল” প্রকল্পের জন্য তিনি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর নিকট থেকে “বঙ্গবন্ধু কৃষি পদক” গ্রহণ করেন।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে  অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে ২০১৫ সালের “মরণোত্তর” স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

জানা যায়, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা'য়,

( হবিগঞ্জ - ১ আসন) দলীয় 'মনোনয়ন' ফরম সংগ্রহ করেন ।