logo-img

১৭, জুলাই, ২০১৯, বুধবার | | ১৪ জ্বিলকদ ১৪৪০


‘আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন’:প্রধানমন্ত্রী

রিপোর্টার: ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৫৭ পিএম


‘আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন’:প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এদেশের মানুষের যেন আর জ্বালাও-পোড়াও ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়। দেশের মানুষ তার ভোটটা শান্তিতে দিতে পারুক। দেশের মানুষ তার মনমতো সরকার বেছে নিক; সেই চিন্তাটা করেই কিন্তু আমরা এই সংলাপে বসেছি এবং আলোচনা করেছি।

শনিবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জেলা হত্যা দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে নির্বাচন ও সরকার হঠানোর নামে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাসের নির্মমতার সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘কাজেই সামনে নির্বাচন। সেই নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের কাছে যখন ঐক্যফ্রন্ট চিঠি দিল, তারা আমাদের সাথে দেখা করতে চান। আমি সাথে সাথে স্বাগত জানালাম…এতো ব্যস্ততার মাঝেও। ময়মনসিংহে পাবলিক মিটিং করে এসেও আমরা আলোচনা করছি।’

ইতোমধ্যে ‘ঐক্যফ্রন্ট’ ও যুক্তফ্রন্ট’ দুটো গ্রুপের সাথে মিটিং হয়ে গেছে। এরপরে আরও সবার সঙ্গে আমরা বৈঠক করবো জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা আলাপ করতে চেয়েছে সংলাপ করতে চেয়েছে, আমরা করেছি। একটা সুন্দর পরিবেশেই আলোচনা হয়েছে। তারা যে সমস্ত দাবিদাওয়া দিয়েছে, যেসব দাবিদাওয়া আমাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব আমরা বলেছি, আমরা করবো। তারা বলেছে, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই। আমি বলেছি, রাজবন্দিদের তালিকা দেন। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো খুনের মামলা না থাকে, কোন ক্রিমিনাল অফেনজ তারা করে না থাকে তাহলে অবশ্যই দেখা হবে। আর আমরা তো কাউকে রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতার করিনি। তা যদি করতাম তাহলে তো খালেদা জিয়া ২০১৫ সালে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা শুরু করলো তখনই তাকে গ্রেফতার করতে পারতাম সেটাও তো আমরা করিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা ও তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা এসব মামলা করেছে তাদেরই আপনজন। তাদেরই বানানো রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন, তাদেরই বানানো সেনাপ্রধান মঈনউদ্দিন, তাদেরই বানানো বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফখরুদ্দিন; এগুলো তো সব বিএনপি’র তৈরি করা। তারাই ক্ষমতায় বসেছে এবং তারাই মামলা দিয়েছে।’ আর মঈনুল হোসেন তো বোধহয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন উপদেষ্টা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘দশটা বছর ধরে মামলা চলেছে, সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমাদের কোনোরকম দুরভিসন্ধি থাকত… এই একটা মামলা শেষ হতে তো ১০ বছর লাগার কথা না। দশ বছর ধরে মামলা চলে মামলার রায় হয়েছে সেই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। এখানে আমাদের তো কিছু করার নাই। আর বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন। স্বাধীন বিচার বিভাগ যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ে খালেদা জিয়া এখন সাজা ভোগ করছে। তারেক জিয়া ভোগ করছে। তারেক জিয়ার জন্য তো আমেরিকার এফবিআই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। আর খালেদা জিয়ার জন্য তার কয়েকটি কেসে সাক্ষী দিতে প্রস্তুত হয়ে আছে। আন্তর্জাতিকভাবেও প্রমাণিত এরা দুর্নীতিতে জড়িত। সেখানে আমাদের করার কি আছে। তারপরও আমরা বলেছি, আপনারা তালিকা দেন। আপনারা দেখবো এখানে কি করা যেতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই সবার অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। এদেশের মানুষের যেন আর ওই জ্বালাও-পোড়াও এই ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে না হয়। এতো অপমান, সব কিছু সহ্য করেও আমরা শুধু দেশের মানুষের কথা চিন্তা করি। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকুক। দেশের মানুষ তার ভোটটা শান্তিতে দিতে পারুক। দেশের মানুষ তার মন মতো সরকার বেছে নিক; সেই চিন্তাটা করেই কিন্তু আমরা এই সংলাপে বসেছি। আলোচনা করেছি এবং অধিকাংশ সময়ে তারাই কিন্তু বলেছে। আমি কিন্তু একটা কথা বলিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এই জোটের যারা তারা কথা বলেছেন। এরপর আমাদের পক্ষ থেকে কথা। একেবারে সর্বশেষ সমাপ্তির জন্য যেটুকু বলার আমি শুধু সেইটুকুই বলেছি।’

‘সেখানে বলেছি, কোনটা কোনটা আমরা করতে পারি। কোনটা নির্বাচন কমিশনের কোনটা রাষ্ট্রপতির কোনটা কিভাবে করা যেতে পারে এবং অনেকগুলো দাবি আমরা মেনেও নিয়েছি। যখন এই আলোচনা চলছে তখন আবার দেখলাম, আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে তারা। একদিকে আলোচনাও করবে আবার আরেকদিকে আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে তাহলে এটা কি ধরনের সংলাপ আর কি ধরনের কথা; আমাদের কাছে বোধগম্য না। জানি না দেশবাসী ও জাতি এটা কিভাবে নেবেন’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এইটুকুই বলতে চাই, এই দেশে অনেক রক্ত ঝরেছে। আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করার পরেও যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় আনলাম তাকে হত্যা করা হলো। যারা মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করে বিজয় এনে দিলেন তাদের হত্যা করা হলো, এরপর থেকে হাজার হাজার সেনাবাহিনীর অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে। আমাদের আওয়ামী লীগের অগনিথ নেতাকর্মীদের উপর যে অকথ্য অত্যাচার নির্যাতন…কত জন নির্যাতিত হয়ে পরেও মৃত্যুবরণ করেছে। এই জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই দেশে একের পর এক অবৈধ ক্ষমতা দখল এবং এই প্রক্রিয়া চলছে।’

‘আজকে যখন গণতান্ত্রিক ধারাটা চলছে, আমরা চাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাটা থাকুক। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়ন হয়। আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। আজ বাংলাদেশ এগিয়ে গেছে। ১৯৭৫’র পর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি। এটা সম্ভব হয়েছে, একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নতি হয়। কারণ আওয়ামী লীগ দেশের উন্নতি চায়, মানুষের ভাল চায়। মানুষ ভাল থাকুক, মানুষের জীবনমান উন্নতি হোক, সেটা আওয়ামী লীগ চায়’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ এর পর মাঝে ক্ষমতায় এসেছে, তারা নিজেদের ভাগ্য গড়তেই ব্যস্ত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু আমাদের সেইগুলো নিয়ত নাই। আমাদের নিয়ত একটাই বাংলাদেশের একেবারের গ্রামের তৃণমূলের মানুষ তারও জীবনমান উন্নত হয়। সেও যেন দারিদ্রের হাত থেকে মুক্তি পায়। প্রত্যেকটি গ্রাম যেন শহরে উন্নীত হয়। নাগরিক সুবিধা এদেশের মানুষ পায়। প্রত্যেকেই যেন তার মৌলিক চাহিদা গুলো পূরণ করতে পারে। আর জাতির পিতার যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ যেন আমরা গড়তে পারি। সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’